প্রকাশিত: Sun, Jul 9, 2023 1:25 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 8:58 AM

[১]সাড়ে ১৪ বছরে দেড় লাখ মামলায় ৪০ লাখ বিএনপি নেতাকর্মী আসামী [২]নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়তে পারেন অনেক চেনামুখ

শাহানুজ্জামান টিটু: [৩] বিএনপির দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওয়ান ইলেভেন আমল থেকে এসব মামলা দায়ের শুরু হয়েছে। অধিকাংশ মামলার বিচার কাজ শেষের দিকে।  আর এ কারণে বিএনপি শঙ্কিত। হয়তো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অনেকেই নিবার্চনের অযোগ্য হয়ে যাবেন।  

[৪] গত ৩১ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা দুর্নীতির ২ মামলায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ৯ বছর এবং ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের ১৩ বছরের সাজা হয়েছে। ফলে দলের এই শীর্ষ দুই নেতার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন অনেকটা অনিশ্চিত। রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে আরো অনেককে একই রকম ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।

[৫] দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য করতে সরকার উঠে পড়ে লেগেছে। সরকার জানে, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের নিশ্চিত পরাজয় হবে। আর এটা ভেবেই তারা আমাদের নেতাদের মিথ্যা মামলায় সাজা দিচ্ছে বা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু সকল জুলুম নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি গত ১৪ বছর এই সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে নিয়ে এগিয়ে যাচেছ। তাই এসব করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

[৬] বিএনপি জানায়, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ৩৬টি। এর মধ্যে ২টি মামলায় তার সাজা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ৫০টি। তিনিও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মামলা ৯৩টি। 

[৭] সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামে, ৪৫১টি। দ্বিতীয় ইসহাক সরকার ৩২৪ ও তৃতীয় যুবদলের সভাপতি টুকু ৩০০টি। 

[৮] হাবিব-উন-নবী খান সোহেল তার বিরুদ্ধে রেকর্ড সংখ্যক মামলার বিষয়ে বলেন, প্রতিটি মামলাই মিথ্যা। তাদের যেখানেই মনে হয়েছে সেখানেই আসামী হিসেবে আমার নাম ঢুকিয়েছে। 

[৯] দলের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের সাবেক নেতা এসএম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ২৭৭টি মামলা রয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে ২৫৪টি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর ১৮০টি, ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ১৩৫টি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে ১৩৪টি মামলা রয়েছে। 

[১০] বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সভায় দাবি করা হয়েছে, গত ১৯ মে থেকে এখন পর্যন্ত ২১৫টি মামলায় মোট আসামী করা হয়েছে ৯ হাজার ৮শত নেতা-কর্মীকে। মোট গ্রেপ্তার ৮৩৬জন। 

[১১] ইতিমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছেন  বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপি নেতা মিয়া নুরুদ্দিন অপু, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহবায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, ইউসুব বিন জলিল, আলী আকবর চুন্নু, আজিজির রহমান মুছাব্বির ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রমুখ। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব